Friday, October 12, 2007

সিলেটি জাতীয়তাবাদ

সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস খুবই ইন্টারেসটিং। খুব প্রাচীন আমলের কথা বলছি না। ১০০ বছর আগেও সিলেট আগেও সিলেট অঞ্চলটা একত্রিভুত ছিল। মূলত সিলেট অঞ্চল বলতে বুঝায় আসামের কাছার, করিমগঞ্জ এবং বাংলাদেশের সিলেট বিভাগকে। ১৯৪৭ সালে প্রথম সিলেটকে টুকরো করা হয়। করিমগঞ্জ ও কাছারকে আসামে আর বর্তমান সিলেট বিভাগকে বাংলাদেশে ভাগাভাগি করা হয়। সিলেট বিভাগ ১৯৪৭ সালে ৪৮-৫২ ভোটে পাকিস্থানে যোগদান করে। সিলটি ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে তা নিশ্চয় জানেন। তাকে বলা হয় নাগরি। সিলেটের অঞ্চলে নাগরি পুথিঁ আজও পাওয়া যায়। নাগরি নিয়ে ড. সাদিকের গুরুত্বপূর্ন অনেক গবেষণা আছে। ড. সাদিক বাংলাদেশ সরকারের একজন আমলা। তাছাড়া সিলেটি লোকজন তাদেরকে সিলেটি পরিচয় দিতেই বেশী পছন্দ করেন। সিলেটের স্বায়ত্বশাসন নিয়ে যদিও আন্দোলন অব্যাহত আছে সারাবিশ্বে। অষ্ট্রেলিয়ার সিলেটিরা খুবই সংঘবদ্ধ। এখানে যেহেতু লোকসংখ্যাই কম তাই সিলেটিরাও কম। তবে সারা বিশ্বের প্রবাসী সিলেটির সংখ্যা ইউকে তেই সবচেয়ে বেশী। তাদের কয়েকটি টিভি চ্যানেল ২৪ ঘন্টাই সিলেটি ভাষা সম্প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলা টিভি, চ্যানেল-এস এর মধ্যে অন্যতম। সিলেটি জাতীয়তাবাদ (আঞ্চলিকতা নয়, পরিষ্কার জাতীয়তাবাদ) এখন দৃশ্যমান সত্যের রূপ ধারণ করেছে। যা কিনা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা আমরা সিলেটি তবে তার চেয়ে বড় কথা বাঙালী । অনলাইন বাংলা টিভি দেখার জন্যে আমার ওয়েব সাইট দেখুন। http://www.mnalamfarid.com/friends আর বিস্তারিত জানতে বাংলা পিডিয়া দেখুন বা এই লিংক দেখুন http://en.wikipedia.org/wiki/Sylhet সিলটি ভাষা সম্পর্কে আর জানতে http://en.wikipedia.org/wiki/Sylheti_language

1 comment:

Anonymous said...

সিলেটি ভাষা সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৈয়দ মুজতবা আলীকে বলেছিলেন- তোমার সিলেটি কথায় কমলালেবুর গন্ধ পাওয়া যায়। সিলেটি ভাষা একটি পরিপূর্ন সাবলীল ভাষা..........যা লিখা হয় নাগরী লিপি দিয়ে সিলেটি ভাষা..যা অনেকে কেবল সিলেটিদের ভাষা বলে মনে করেন..আসলে সিলেট,আসামের কাছাড় জেলা এবং মেঘালয়ের অধিকাংশ মানুষের মুখের ভাষা সিলেটি..তাছাড়া প্রবাসী বিরাট এক অংশ তো আছেই

সিলেটি ভাষা....যা অনেকে কেবল সিলেটিদের ভাষা বলে মনে করেন..আসলে সিলেট,আসামের কাছাড় জেলা এবং মেঘালয়ের অধিকাংশ মানুষের মুখের ভাষা সিলেটি...তাছাড়া প্রবাসী বিরাট এক অংশ তো আছেই...এখন প্রশ্ন হচ্ছে...সিলেটি ভাষা কি বাংলারই বিকৃত রূপ না সম্পূর্ন পৃথক একটি ভাষা..........এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে,,,,,,,আমি কেবল আমার ধারনা টুকু তুলে ধরব.........
সিলেটি সম্পূর্ণ আলাদা ভাষা বলব আমি প্রধানত ২ টি কারনে......
১.সিলেটি ভাষা একমাত্র আঞ্চলিক ভাষা যে ভাষার নিজস্ব সম্পূর্ন আলাদা ব্যাকরন এবং লিপি রয়েছে,,,,,নাগরী লিপি.
২.সিলেটি ভাষা একমাত্র আঞ্চলিক ভাষা যে ভাষা এখোনো সিলেটের শিক্ষিত সমাজ বাংলা ভাষার পাশাপাশি সাহিত্যে এবং বিভিন্ন ... See more
এখন প্রশ্ন হচ্ছে..সিলেটি ভাষা কি বাংলারই বিকৃত রূপ না সম্পূর্ন পৃথক একটি ভাষা...এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে,,,,,,,আমি কেবল আমার ধারনা টুকু তুলে ধরব.........
সিলেটি সম্পূর্ণ আলাদা ভাষা বলব আমি প্রধানত ২ টি কারনে..
১.সিলেটি ভাষা একমাত্র আঞ্চলিক ভাষা যে ভাষার নিজস্ব সম্পূর্ন আলাদা ব্যাকরন এবং লিপি রয়েছে,,,,,নাগরী লিপি.সিলেটি ভাষা___একটি পরিপূর্ন সাবলীল ভাষা..........যা লিখা হয় নাগরী লিপি দিয়ে
আনুষ্ঠানিক কাজকর্মে ব্যভার করে থাকেন............
যাই হোক...........সিলেটি সাহিত্য সম্পর্কে পরে কিছু লিখার ইচ্ছা আছে.......আজ নাগরী লিপি নিয়ে কিছু লিখব................
সিলেটবাসীর নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা সিলেটবাসীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ এবং সিলেটী নাগরী লিপি সিলেটের এক অমূল্য সম্পদ। গবেষণা করে দেখা গেছে সিলেটী নাগরী একটি বিজ্ঞান সম্মত লিপি এবং যারা তা উদ্ভাবন করেছেন, এ লিপি তাদের বিরল প্রতিভার সাক্ষ্য বহন করছে।
অধ্যাপক শিব প্রসাদ লাহিড়ীর মতে এ লিপি উর্দূ লিপির চেয়ে অনেক প্রাচীন। তিনটি অক্ষর ছাড়া সেখানে কোন যুক্ত অক্ষর নেই এবং সবর্মোট ৩২টি অক্ষর মাত্র। সিলেটের ভাষার সাথে মিল রেখেই তৈরি হয়েছে নাগরী লিপি।..................বাংলার সাথে এর কোন মিল নাই,,,,অনেকে একে দেবনাগরী ও বলে থাকেন,,,,,হিন্দির সাথে বরং এর মিল আছে......নাগরী লিপি কে অনেকে প্রাচীন বিহারীয় লিপি থেকে উদ্ভূত বলে মনে করে থাকেন...

ডক্টর সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায় খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীকে সিলেটে এই
লিপির প্রচলনকাল বলে অনুমান করেন।আবার কেউ কেউ হযরত শাহজালালের সাথে এই লিপির সিলেটে আগমনেরও ধারনা করে থাকেন......
নাগরী হরফে লিখা এক বিরাট সাহিত্য সম্ভার রয়েছে..........ভিন্ন ভিন্ন সুত্র থেকে এ পর্যন্ত ‘সিলটী নাগরী হরফ’-এ লেখা ১৪০ খানা গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটা কম সৌভাগ্যের ব্যাপার নয়। ‘সিলেটী নাগরী” লিপি, ভাষা ও সাহিত্য’ নিয়ে গবেষণার পর জনাব গোলাম কাদির ১৯৮৩ খৃষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। একই বাংলা ভাষায় দুইটি আলাদা আলাদা লিপির মাধ্যমে সাহিত্য সাধনার এমন নিদর্শন নজিরবিহীন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটি আর কোথাও নেই।”
বহুভাষাবিদ ড·সৈয়দ মুজতবা আলীর মতে সিলেটী একটি ভাষা এবং বহু দিক দিয়ে এ ভাষা অনন্য বৈশিষ্ট্যের দাবিদার। সিলেটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির অষ্টম জাতীয় ইতিহাস সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত ও বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক আসাদ্দর আলী সম্পাদিত স্মারকগ্রন্থ সিলেট দর্পণে এ সম্পর্কে ড· আলীর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে।